এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উৎসব ভাতা নিয়ে ফের সুখবর
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উৎসব ভাতা নিয়ে ফের সুখবর
এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য ফের সুখবর। এখন থেকে উৎসব ভাতা এবং এমপিও সংক্রান্ত প্রাপ্য অর্থের বিল জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ ও উন্মুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠান প্রধানরা ইএমআইএস সিস্টেমের এমপিও-ইএফটি মডিউলে লগইন করে যেকোনো সময় বিল সাবমিট করতে পারবেন। এতে দীর্ঘদিন ধরে তথ্যগত জটিলতায় আটকে থাকা অনেক শিক্ষকের উৎসব ভাতা দ্রুত পাওয়ার পথ সুগম হবে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানিয়েছে। অধিদপ্তর জানায়, ইএফটি (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) পদ্ধতিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সরাসরি তাদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হচ্ছে।
তবে এনআইডি, ব্যাংক হিসাব নম্বর বা অন্যান্য তথ্যগত ভুলের কারণে অনেকের অর্থ প্রেরণ সাময়িকভাবে বন্ধ বা বিলম্বিত হয়েছিল। সেই সমস্যা সমাধানে পুনরায় বিল সাবমিটের সুযোগ চালু করা হয়েছে।
অধিদপ্তরের ইএমআইএস সেলের এক কর্মকর্তা জানান, এর আগে বকেয়া বিল জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও সব প্রতিষ্ঠান তা সম্পন্ন করতে পারেনি। প্রায় ১ হাজার ৩৭৯ জন শিক্ষকের মধ্যে মাত্র ৬৬৫ জনের বিল সাবমিট হয়েছিল। ফলে বাকি শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রাপ্য অর্থ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আবারও বিল সাবমিটের সুযোগ উন্মুক্ত করা হয়েছে। এবার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। প্রতিষ্ঠান প্রধানরা প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো সময় সিস্টেমে প্রবেশ করে বিল জমা দিতে পারবেন।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত এমপিওভুক্ত জনবলের অর্থ ইএফটির মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু আইবাস ডাবল প্লাস সিস্টেমে তথ্য যাচাইয়ের সময় যেসব শিক্ষক-কর্মচারীর তথ্য ইনভ্যালিড হয়েছিল এবং পরবর্তীতে সংশোধিত হয়েছে, তাদের প্রাপ্য অর্থ দেওয়ার জন্য বিল সাবমিট অপশন সক্রিয় করা হয়েছে।
যেসব মাসের উৎসব ভাতা বা এমপিওর অর্থ বকেয়া রয়েছে, সেসব মাসের জন্য আলাদাভাবে বিল সাবমিট করতে হবে। প্রতিষ্ঠান প্রধানের দাখিলকৃত তথ্যের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বা কর্মচারীর ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানো হবে।
ইএফটি চালুর পর উল্লেখিত সময়ের মধ্যে যদি কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী অনলাইন এমপিও আবেদন করে ইতোমধ্যে প্রাপ্য অর্থ গ্রহণ করে থাকেন, তাহলে বিল সাবমিটের সময় ‘পেমেন্ট নেই’ অপশন নির্বাচন করতে হবে।
এছাড়া—
- কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী মৃত্যুবরণ করলে সংশ্লিষ্ট মাস পর্যন্ত বিধিমোতাবেক প্রাপ্য নির্ধারণ করে বিল সাবমিট করতে হবে।
- পদত্যাগ, সাময়িক বরখাস্ত, অনুমোদনহীন অনুপস্থিতি, স্টপ পেমেন্ট বা সনদ জালিয়াতির মতো ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কর্তন বা স্থগিতাদেশের তথ্য সিস্টেমে উল্লেখ করতে হবে।
- আংশিক বা সম্পূর্ণ বেতন বন্ধের বিষয় থাকলেও তা সঠিকভাবে এন্ট্রি দিতে হবে।
অধিদপ্তর স্পষ্ট জানিয়েছে, ইএফটির মাধ্যমে অর্থ প্রেরণের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধানের দেওয়া তথ্যই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। ভুল তথ্যের কারণে অর্থ না পৌঁছানো বা অতিরিক্ত অর্থ প্রেরিত হলে তার দায়ভার প্রতিষ্ঠান প্রধানের ওপর বর্তাবে।
দীর্ঘদিন ধরে তথ্যগত জটিলতার কারণে যারা উৎসব ভাতা ও বেতন পেতে বিলম্বের মুখে পড়েছিলেন, তাদের জন্য এই উদ্যোগ স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে। সময়সীমাহীন বিল সাবমিট সুবিধা চালু হওয়ায় ধাপে ধাপে সব প্রাপ্য নিষ্পত্তি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ফলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া আরও গতিশীল ও সহজ হলো বলে মনে করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।

Comments
Post a Comment