যেদিন থেকে কার্যকর হতে পারে শিক্ষকদের স্বতন্ত্র পে-স্কেল

যেদিন থেকে কার্যকর হতে পারে শিক্ষকদের স্বতন্ত্র পে-স্কেল 



ছবি- সংগৃহীত

ছবি- সংগৃহীত

দীর্ঘদিন পরে হলেও দেশের বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দাবি পূরণ হচ্ছে। নবম পে-স্কেলের আওতায় থাকা স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বহুদিন ধরেই নিজেদের জন্য একটি স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো প্রণয়নের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। অবশেষে এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, যা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। তবে কবে থেকে তা কার্যকর হবে এ নিয়ে নানা মহলে কৌতুহল দেখা দিয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, খুব শিগগিরই এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা আলাদা বেতন কাঠামোর আওতায় আসতে পারেন। এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারির প্রস্তুতি চলছে। বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে মন্ত্রণালয়ের ভেতরে এ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনের মধ্য দিয়ে কার্যকর হতে পারে শিক্ষকদের স্বতন্ত্র পে-স্কেল।

নীতিনির্ধারকরা বলছেন, নতুন পে-স্কেল কার্যকর করতে হলে পে-কমিশনের সুপারিশ, সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন এবং গেজেট প্রকাশ—এই তিনটি ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। এসব প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্বতন্ত্র পে-স্কেল বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। 

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত পে-কমিশন জানিয়েছিল, শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো নির্ধারণ তাদের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না। তাদের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব বাংলাদেশ সার্ভিস কমিশনের। ফলে তারা এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তবে বর্তমান সরকার সেই অবস্থান থেকে সরে এসে শিক্ষকদের দাবি বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

অন্যদিকে, বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন ও জোট ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তাদের প্রস্তাব জমা দিয়েছে। এসব প্রস্তাবে বিদ্যমান বেতন কাঠামোর ১ম থেকে ৭ম গ্রেড অপরিবর্তিত রেখে নিচের গ্রেডগুলো পুনর্বিন্যাস করতে সুপারিশ করেছে।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, ১ম গ্রেডে শিক্ষকদের মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। এর পাশাপাশি বছরে ২.৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট, ৩ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা, মূল বেতনের ৪০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া এবং ১ হাজার ৫০০ টাকা শিক্ষা ভাতা অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

অবশেষে স্বতন্ত্র স্কেলে বেতন পেতে যাচ্ছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা
এছাড়া ২য় থেকে ৭ম গ্রেড পর্যন্ত প্রস্তাবিত মূল বেতন যথাক্রমে ১ লাখ ৪০ হাজার, ১ লাখ ২৫ হাজার, ১ লাখ ১০ হাজার, ৯৫ হাজার, ৮০ হাজার এবং ৭০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।

নিম্ন গ্রেডের ক্ষেত্রে ৮ম গ্রেডে ৬২ হাজার, ৯ম গ্রেডে ৫৫ হাজার, ১০ম গ্রেডে ৫০ হাজার, ১১তম গ্রেডে ৪৫ হাজার, ১২তম গ্রেডে ৪০ হাজার, ১৩তম গ্রেডে ৩৫ হাজার এবং ১৪তম গ্রেডে ৩০ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ প্রস্তাবে কেবল বেতন বৃদ্ধিই নয়, বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন গ্রেডে ভিন্ন হারে বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যাতে সামগ্রিকভাবে শিক্ষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটে।

রূপালী বাংলাদেশ




Countdown Timer

00:01

Comments

Popular posts from this blog

অবশেষে রাষ্ট্রপতির চূড়ান্ত নাম ঘোষণা

নির্বাচন উপলক্ষে সাধারণ ছুটি আরও বাড়ল

২০২৬ সালে উপজেলা ইউনিয়ন নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ